তাওবাকারীদের স্তর

তাওবাকারীদের স্তর

ঈমানদার ব্যক্তি তার গোনাহকে এত বিরাট মনে করে যেন সে একটি পাহাড়ের নিচে বসে আছে। আর সে আশংকা করছে যে, পাহাড়টা তার ওপর ধসে পড়বে। পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গোনাহকে একটি মাছির মত মনে করে, যা তার নাকে চলে যায়।[1] 

     মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
 وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ  

তারা কখনও কােন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কােন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা র্প্রাথনা কর। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবনে?

ইসলামে নারীর মর্যাদা

ইসলামে নারীর মর্যাদা 

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আবির্ভাবের পূর্বে  নারীদের অবস্থায় ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। ইসলাম পূর্ব যুগে নারীদের কে শুধু ভোগের সামগ্রী হিসাবে ব্যবহার করা হত। তারা ছিল সমাজে, পরিবারে নিতান্ত নিকৃষ্ট। তাদের কোন অধিকার ছিলনা। এমন কি মেয়ের জন্ম হলে পিতা কন্যা সন্তানকে জীবন্ত মাটির নীচে পুতে দিত এ কলঙ্ক ঢাকার জন্য। প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রে এমন বর্ণনা আছে:  মৃত্যু, নরক, আগুন, বিষ, সর্প এর কোনটি নারীর অপেক্ষা মারান্তক নয়। যুবতী নারীকে প্রতিমার উদ্দেশ্যে বলি দেয়া হত দেবতার সন্তুষ্টির জন্য, বৃষ্টি ধন -দৌলত লাভের জন্য। স্বামীর মৃত্যুর সাথে স্ত্রী সহ মৃত্যু বরণ বা সতীদাহ পালন হিন্দু সমাজের রীতি। নারীকে সকল পাপ অন্যায় ও অপবিত্রতার কেন্দ্র বা উৎস বলে ঘৃণা করা হত। তারা বলতো: নারী হচ্ছে শয়তানের বাহন। নারীরা হচ্ছে এমন বিষধর সাপ যা পুরুষকে দংশন করতে কখনো কসুর করে না।

এথেন্স বাসিরা সভ্যতা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে উল্লেখ্য যোগ্য প্রাচীনতম জাতী। সেখানেও নারীকে পরিত্যক্ত সামগ্রীর মতো মনে করা হতো। বাজারে প্রকাশ্য ভাবে নারীর বেচাকেনা হতো। সন্তান প্রসব লালন- পালন ছাড়া

ঈদে মিলাদুন্নবী দ.

 ঈদে মিলাদুন নবী (দ.)

পবিত্র ঈদে মিলাদুন নবী (দ.) উপলক্ষে আমরা প্রতিবছর রবিউল আউয়াল মাসে আনন্দ উদযাপন করে থাকি । বড়ই বেদনাদায়ক বিষয় হচ্ছে আমাদের উক্ত নেক আমলকে কিছু জাহেল বা নবী বিদ্বেষীরা হারাম , নাজায়েজ এবং শিরক বলে সাধারণ ঈমানদার সুন্নি মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাছে । আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে  আমি নূর নবী (দ.) এর একজন তুচ্ছ গোলাম হিসেবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন নবী (দ.) উপলক্ষে আনন্দ উদযাপন করার বৈধতা ও শরীয়তে তার অস্তিত্ব প্রমাণের সাথে মিলাদুন নবী অস্বীকারকারীদের জবাব দেয়ার জন্য পোষ্টটি লেখার সৌভাগ্য লাভ করেছি আলহামদুলিল্লাহ ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ ।

ভূমিকাতেই সবাইকে  সহজ ভাবে বুঝার ও তাদের অতিরিক্ত প্রশ্ন বন্ধের জন্যে শুরুতেই যে বিষয়টি বলে নিতে হচ্ছে সেটা হল আমরা ঈদে মিলাদুন নবী (দ.) উদযাপনের দালীল কুরআন ও হাদীসের আলোকেই উপস্থাপন করবো

হুযুর কেবলা (পীরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি)

হুযুর কেবলা


আমাদের ইসলাম ধর্ম ইফরাত ও তাফরিতের মাঝামাঝি, ধর্মীয় জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিমাত্রই এটা উপলব্ধি করতে পারেন। কেননা, শিথীলতা ও বাড়াবাড়ি আগেরকার যুগের ধর্মে ছিল। ইসলামে সর্ব প্রথম ঈমান আনা হয় একমাত্র আল্লাহর ওপর এবং তার রাসুলের ওপর। রাসুল (দ.) কে ভালোবাসা ঈমানের পরিপূর্ণতার জন্য আবশ্যক, তাই শুরু দিক থেকে আজ পর্যন্ত  মুসলমানগণ রাসুল (দ.) কে তার স্বীয় আত্মা ও যাবতীয় কিছু থেকে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসে। এটা শরীয়তের কাম্য এবং সবার ঈমানী দায়িত্ব। কিন্তু পীরকেও কি নিজের আত্মা ও যাবতীয় কিছু থেকে অধিক ভালোবাসা শরীয়তের কাম্য?

আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের পরিচয়

আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের পরিচয়: ১ম পর্ব

অন্ধকারের ধূম্রজালে আবদ্ধ, ভ্রান্তির শৃংঙ্খলে বেষ্টিত, কুফর ও শিরকের দাবানলে দগ্ধ, পৃথিবীর মোহে আসক্ত, কিংকর্তব্যবিমূঢ় দিশেহারা মানুষকে সঠিক পথের দিশা দানের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুক্তির দূত , পথ হারা মানুষের সুপথের দিশারী , রাহামাতুল্লিল আলামীন সায়্যিদুনা মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে তাঁর পক্ষ থেকে রাসূল হিসাবে এ ধরাধামে পাঠিয়েছেন । তাঁর আগমনের পর হক-বাতিলের সঠিক পরিচয় সকলের নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠে । অসত্যের সকল নিশানা থেকে সত্য তার সর্বাঙ্গ সুন্দর রূপ নিয়ে বের হয়ে আসে ।


    হাদীস শরীফে এসেছেঃ
إن بني إسرائيل افترقوا على إحدى و سبعين ملة و تفترق أمتي على ثلاث و سبعين ملة كلها في النار إلا ملة واحدة فقيل له : ما الواحدة ؟ قال : ما أنا عليه اليوم و أصحابي
বনী ঈসরাঈল সম্প্রদায় একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উম্মত তিহাত্তর দলে বিভক্ত হবে, সব দল জাহান্নামে যাবে, কিন্তু একটি দল জান্নাতে যাবে। তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রাসুল ওই দলটি কোনটা হুজুর (সাঃ) বললেন,

নবী (দ.) এর ওফাত দিবস কি ১২ ই রবিউল আউয়াল?

নবী (দ.) এর ওফাত দিবস কি ১২ ই রবিউল আউয়াল?


আজকাল মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরোধীতা করতে গিয়ে অনেকেই বলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম তারিখ নিয়ে ইখতিলাফ আছে, কিন্তু ইন্তেকালের তারিখ নিয়ে কোন ইখতিলাফ নেই। তাই ১২ ই রবিউল আউয়াল নবীজীর ইন্তেকালের তারিখে শোক পালন না করে মিলাদীরা আনন্দ উপভোগ করে কেন? এমন কথা রবিউল আউয়াল মাস আসলে অনেক মিলাদ বিরোধী ভাইদের মুখ থেকে শোনা যায়। আজ আমরা আলোচনা করব, আসলে বিষয়টি কতটা সত্য? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের তারিখ নিয়ে কোন ইখতিলাফ নেই?

গান শোনার হুকুম

ইসলামে গান শোনার হুকুম

আজকাল সময় কাটানোর জন্য যে গুলোকে বিনোদন মনে করা হয়, সে ব্যাপারে ইসলামের বিধান কি? তা আমরা নিম্নে উল্লেখ করছি। যদি আমরা এগুলোকে শরীয়তের দৃষ্টিতে দেখি; তাহলে দেখা যাবে এগুলো বিনোদন নয়, এগুলো হলো মন, মস্তিষ্ক ও আত্মাকে ক্ষত বিক্ষত করা।

♫ গান শোনা

অন্তরের প্রশান্তি বা সাময়িক আনন্দের জন্য ভালো কবিতা পাঠ করা শুধু বৈধই নয়, বরং এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম ও সলফে সালেহীনদের থেকেও বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু, এমন গান যাতে বাদ্য যন্ত্র ব্যবহার করা হয় অথবা গায়রে মাহরাম মহিলার কন্ঠে হয়- তাহলে তা শুধু হারামই নয়; বরং রাসুলুল্লাহ (দ.) কে আমাদের মাঝে পাঠানোর উদ্দেশ্যের পরিপন্থি। রাসুলুল্লাহ (দ.) বলেছেন: আল্লাহ আমাকে হেদায়াত ও রহমতস্বরুপ পাঠিয়েছেন এবং আল্লাহ আমাকে গান-বাদ্য, ক্রুশ ও জাহিলিয়াতের প্রথাকে ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন। বুখারী শরীফে এসেছে:

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনের ইতিহাস

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনের ইতিহাস

ড. মুহা: সাইফুল ইসলাম আযহারী

     ☆সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী উদাযাপনকারী সম্পর্কে আল্লামা ইবনে কাছীর (র.) البداية والنهاية  নামক ইতিহাসের কিতাবে বলেন: মালেক মুজাফ্ফর আবু সাঈদ বিন জয়নুদ্দিন (আরবলের বাদশাহ)। তিনি প্রতি বছর রবিউল আউয়াল মাসে স্বীয় শহরে জৌলুসর্পূণভাবে বিরাট মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করতেন। তথায় বহু সুফী, আলেম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতেন। তিনি একজন বেনজির বীর, আলেম, বিচারক ছিলেন। 
মিলাদুন্নবী সম্পর্কে সর্বপ্রথম কিতাব রচনা করেন ইবনে দাহিয়াহ (র.) যার নাম ছিল : التنوير بمولد البشير النذير  এবং এর জন্য তাকে একহাজার দিনার উপঢৌকন দেওয়া হয়।[1] 

     এ বাদশাহর ব্যাপারে ইমাম জাহাবী (র.) তদ্বীয় سير أعلام النبلاء কিতাবে বলেছেন : 
  
كان متواضعا ،خيرا، سنيا يحب الفقهاء والمحدثين
  
তিনি ছিলেন বিনয়ী, সৎ, মর্যাদাবান। তিনি ফকিহগণ ও মুহাদ্দিসগণকে ভালোবাসতে ও পছন্দ করতেন।[২]

     প্রখ্যাত আলেম ইবনে জাওযী (র.) এর নাতি ইমাম ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ সাবত (র.) বলেন :

 وكان يحضر عنده في المولد أعيان العلماء والصوفية

মিলাদুন্নবী উদযাপনকালে তার নিকট আলেম ও সুফীদের নেতৃস্থানীয়গণ উপস্থিত হতেন।[৩]

বিভ্রান্তির জবাব

     বলা হয়ে থাকে যে, সর্বপ্রথম ফাতেমী খেলাফতের লোকজনই মিলাদুন্নবী উদযাপন করেন। আর তারা হলো শিয়া, রাফেযীমতালম্বী আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার নাতি পূতী। এ কথার প্রবর্তক হলেন আল্লামা ইবনে কাছীর (র.)। তিনি البداية والنهاية নামক ইতিহাসের কিতাবের ১ম খন্ডের ১৭২ নং পৃষ্ঠাতে বলেন :