ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনের ইতিহাস

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনের ইতিহাস

ড. মুহা: সাইফুল ইসলাম আযহারী

     ☆সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী উদাযাপনকারী সম্পর্কে আল্লামা ইবনে কাছীর (র.) البداية والنهاية  নামক ইতিহাসের কিতাবে বলেন: মালেক মুজাফ্ফর আবু সাঈদ বিন জয়নুদ্দিন (আরবলের বাদশাহ)। তিনি প্রতি বছর রবিউল আউয়াল মাসে স্বীয় শহরে জৌলুসর্পূণভাবে বিরাট মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করতেন। তথায় বহু সুফী, আলেম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতেন। তিনি একজন বেনজির বীর, আলেম, বিচারক ছিলেন। 
মিলাদুন্নবী সম্পর্কে সর্বপ্রথম কিতাব রচনা করেন ইবনে দাহিয়াহ (র.) যার নাম ছিল : التنوير بمولد البشير النذير  এবং এর জন্য তাকে একহাজার দিনার উপঢৌকন দেওয়া হয়।[1] 

     এ বাদশাহর ব্যাপারে ইমাম জাহাবী (র.) তদ্বীয় سير أعلام النبلاء কিতাবে বলেছেন : 
  
كان متواضعا ،خيرا، سنيا يحب الفقهاء والمحدثين
  
তিনি ছিলেন বিনয়ী, সৎ, মর্যাদাবান। তিনি ফকিহগণ ও মুহাদ্দিসগণকে ভালোবাসতে ও পছন্দ করতেন।[২]

     প্রখ্যাত আলেম ইবনে জাওযী (র.) এর নাতি ইমাম ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ সাবত (র.) বলেন :

 وكان يحضر عنده في المولد أعيان العلماء والصوفية

মিলাদুন্নবী উদযাপনকালে তার নিকট আলেম ও সুফীদের নেতৃস্থানীয়গণ উপস্থিত হতেন।[৩]

বিভ্রান্তির জবাব

     বলা হয়ে থাকে যে, সর্বপ্রথম ফাতেমী খেলাফতের লোকজনই মিলাদুন্নবী উদযাপন করেন। আর তারা হলো শিয়া, রাফেযীমতালম্বী আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার নাতি পূতী। এ কথার প্রবর্তক হলেন আল্লামা ইবনে কাছীর (র.)। তিনি البداية والنهاية নামক ইতিহাসের কিতাবের ১ম খন্ডের ১৭২ নং পৃষ্ঠাতে বলেন : 

ইসলামে বিনোদনের হুকুম


ইসলামে বিনোদনের হুকুম: ১ম পর্ব
   
     অপসংস্কৃতি বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে লিখতে গেলেই সমাজের একটি অংশ থেকে প্রতিবাদ  আসে। আসে প্রগতি বিরোধী, প্রাচীনপন্থী, ক্ষ্যাতসহ নানা খেতাব। গ্রাম বাংলার আপামর জনতা যখন বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বক্তব্যে দ্বিধান্বিত হয়ে সত্য জানতে চান, তখন আর নিজেকে গুটিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। অপসংস্কৃতির বিপক্ষে কথা বলতে গেলে প্রাসঙ্গিকভাবেই এ বিষয়টি এসে পরে যে,  ইসলামে কি বিনোদনের কোনো সুযোগ নেই?  ইসলাম ধর্মে বিনোদনের ব্যাপারে কি রায়, সে বিষয়ে আলোচনার পূর্বে সংস্কৃতি কাকে বলে এবং বিনোদন কি তা সুস্পষ্টভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন। তাহলে ইসলামে সংস্কৃতি এবং বিনোদনের সর্ম্পকটিও সহজভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হবে।

         সহজ র্অথে সংস্কৃতি হচ্ছে: একটি জাতির র্দীঘদিনের জীবনাচরনের ভেতর দিয়ে যে মানবিক মূল্যবোধ; সুন্দরের পথে কল্যাণের পথে এগিয়ে চলে তাই সংস্কৃতি। র্ববরতা ও উগ্রতা পরিহারর করে ভদ্র হয়। বিভিন্ন আচার-আচারণ, নিয়ম কানুন, বিশ্বাস ও রীতি সব কিছুই সংস্কৃতির অর্ন্তভূক্ত। একটি জাতির সংস্কৃতি বলতে বুঝায়; সামগ্রকিভাবে অবশ্যই তার অস্তিত্ব ঐ জাতির সত্ত্বার মধ্যে থাকতে হবে। সামান্য খণ্ডকালীন বা ছোটখাট কোন সংঘবদ্ধ কমিউনিটির আচার-প্রথাকে পুরো জাতির সংস্কৃতি হিসেবে চালিয়ে দেয়া মোটেও ঠিক হবে না। কারো মতে, সংস্কৃতি হচ্ছে এমন বিষয়, যা মানুষের মন ও মননকে সুসভ্য করে গড়ে তোলে।
  
      আর বিনোদন বলতে আমরা বুঝে থাকি যে, এমন ক্রিয়া-কলাপ; যা মানুষকে আনন্দিত করে,  প্রশান্তি এনে দেয়। অবসাদকে পেছনে ফেলে স্বচ্ছ ও প্রশান্ত হৃদয়ে নব উদ্যমে সত্য ও সুন্দরের পথে এগিয়ে  যেতে বিনোদন মানুষকে সহযোগতিা করে।
   
উপরোক্ত সংজ্ঞানুসারে আমরা যদি সংস্কৃতি ও বিনোদনকে পাশাপাশি রেখে বিবেচনাচেনা করি তাহলে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে, ‘সাংস্কৃতকি বিনোদন’ ।  আর এটা হবে এমন কিছু মৌলিক র্কমকান্ড, যা কিছু সুন্দর ক্রিয়া-কলাপের মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে প্রশান্তি দয়িে তাকে সুসভ্য ও ভদ্র হতে সহযোগিতা করবে। ক্লান্তি আর অবসাদকে খুবই সাবলীলভাবে ব্যক্তির অজান্তেেই দূরে সরিয়ে  দিবে এবং শরীর ও মন উভয়কইে এক অনাবিল, অর্পাথিব শান্তি এনে দিবে।
  
     আর যদি আমাদের এই ‘সাংস্কৃতকি বিনোদন’ এর সংজ্ঞায় আত্ম উপলব্ধি ভুল না হয়ে থাকে এবং রূহ বা আত্মার মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত প্রশান্তি আর অনাবিল স্বস্তি র্অজন করা সম্ভব, আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি যে, সংস্কৃতি ও বিনোদনের মূল উৎসই হচ্ছে ইসলাম। ইসলাম ধর্ম ছাড়া বা ইসলাম সর্মথিত পন্থা ও পদ্ধতি ছাড়া, সংস্কৃতি ও বিনোদন বলতে এ পৃথিবীতে আর কিছুই নেই। ইসলাম অসর্মথিত ও বিরুদ্ধে কোনো পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার র্কাযকলাপকেই সংস্কৃতি কিংবা বিনোদন বলে প্রচার করার চেষ্টা হোক না কেন, প্রকৃতপক্ষে তা চূড়ান্ত র্পযায়ের অসভ্যতা, অভদ্রতা আর অপসংস্কৃতির আখড়া ছাড়া কিছুই নয়।
  

আরও পড়ুন:


তাওবার শর্তাবলী


মানব অন্তর যখন কালিমযুক্ত হয়ে যায়, দুনিয়ার প্রাচুর্যের মোহ ও প্রবৃত্তির চাহিদা যখন নফসকে দূর্বল করে ফেলে। শত পাপের শৃঙ্খলে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলে মানুষ। হতাশা আর গ্লাণি যখন তাকে পেয়ে বসে,এই পাপ রাশি থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে তখন তওবার হাত তোলে। আর মহান আল্লাহ তাকে মার্জনা করে রহমতের দ্বারা আবদ্ধ করে নেন। আর আল্লাহ হলেন গফুরুর রাহিম, ক্ষমাশীল,দয়ালু। প্রত্যেক মানুষের প্রতি রয়েছে আল্লাহ তায়ালার সীমাহীন দয়া। শিরক ছাড়া মানুষ অতি জঘন্য ও ছোট-বড় যত অপরাধই করুক না কেন, আল্লাহর কাছে তওবা করলে আল্লাহ তায়ালা তার সব পাপ ক্ষমা করে তাকে আপন করে নেন। হাদীসে এসেছে: 

التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ

গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনাকারী ব্যক্তি নিষ্পাপ ব্যক্তির মত।[1]

   فتح الباري  কিতাবে আল্লামা ইবনু হাজার আসকালানী র. উল্লেখ করেন

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মোবারক  (র.) থেকে তাওবার শর্তের ব্যাপারে অতিরিক্ত বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন : গুণাহের জন্য লজ্জিত হওয়া। পুনরায় পাপের দিকে ফিরে না যাওয়ার সংকল্প করা। অত্যাচারিত বা অন্যায়ভাবে আদায়কৃত জিনিস ফিরিয়ে দেওয়া। ফরয বিধানসমূহ থেকে যা নষ্ট করা হয়েছে তা আদায় করা। হারামের মাধ্যমে শরীরের যে বৃদ্ধি হয়েছে তাকে দুঃখ ও বিষন্নতার ( অনুতাপ) দ্বারা নিঃশেষ করে দিতে হবে যতক্ষন না পর্যন্ত পবিত্র না হয়। শরীরকে আনুগত্যের কষ্ট ও যন্ত্রণা আস্বাদন করাতে হবে যেমনিভাবে তাকে পাপের স্বাদ দেওয়া হয়েছে।2]

ইসলামিক উপন্যাস সমগ্র: ফ্রি ডাউনলোড


  1. মুসলমানের হাসি.pdf
  2. লৌহ মানব.pdf
  3. সীমান্ত খুলে দাও.pdf
  4. তারিক বিন যিয়াদ.pdf
  5. শয়তানের বেহেশত - ১.pdf
  6. শয়তানের বেহেশত - ২.pdf
  7. শত্রুদেশে মুসলিম গোয়েন্দা - ১.pdf
  8. শত্রু দেশে মুসলিম গোয়েন্দা - ২.pdf
  9. বাগদাদের ঈগল - ১.pdf
  10. বাগদাদের ঈগল - ২.pdf
  11. বদর প্রান্তর.pdf
  12. প্রেম যুদ্ধ.pdf
  13. দামেস্কের কারাগারে.pdf
  14. কাশ্মির বীরাঙ্গনা.pdf
  15. কাল নাগিণী.pdf
  16. আফ্রিকার দুলহান.pdf
  17. আগুনের কারাগার.pdf
★নসীম হিজাযীর আসল নাম ছিলো শরীফ হুসাইন। নসীম হিজাযী ছদ্মনামে তিনি লেখালেখি করতেন। ১৯১৪ খৃস্টাব্দে পাঞ্জাব জেলার গুরুদাসপুরে শরীফ হুসাইন জন্মগ্রহণ করেন। পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করলে তিনি পরিবারের সাথে পাকিস্তানে চলে আসেন। লাহোরে বসবাসরত অবস্থায় ১৯৯৬ সনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

★বিখ্যাত সাংবাদিক, কলামিস্ট, ঔপন্যাসিক এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ ১ নভেম্বর ১৯২০ খৃস্টাব্দে (স্বাধীনতাপূর্ব) পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের এক রাজপুত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৯ খৃস্টাব্দের ১৬ ই নভেম্বর ৭৯ বছর বয়সে তিনি লাহোরে ইন্তেকাল করেন।

বই পড়ার উপকারিতা:

পড়া শোনা কষ্ট দূর করে
তুমি যদি কষ্টে থাকো তাহলে কিভাবে সময়গুলো অতিবাহিত করবে?গান শুনে? না হেটে? সাসেক্স বিশ^বিদ্যালয়ের এক গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, পড়া শোনা করে আপনি এই সময়টা অতিবাহিত করতে পারেন। তারা দেখিয়েছেন যে, গান শুনা, হাটা, চা পান করার চেয়ে পড়া শোনা করাই এ ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর।
অনিদ্রা হতে মুক্তি পেেত সাহায্য করে
শান্ত হওয়া ও একটা সুন্দর রাতের ঘুমের জন্য পড়া শোনা সব চেয়ে বিশি কার্যকরী একটি পন্থা। ্উজ্জল আলো ও টেলিভিশনের স্কিনের আলো তোমার মস্তিষ্কে এই বার্তা পাটিয়ে দেয় যে, ঘুম হতে উঠার সময় হয়ে গেছে। আর হালকা আলোয় আপনার পছন্দের বইটি পড়া এর বিপরীত প্রভাব ফেলে বার্তা দেয় যে, এটিই আপনার বিশ্রামের উপযুক্ত সময়।
 স্মৃতি ও চিন্তা শক্তিকে উন্নত করে
প্রত্যেক সময় পড়া মানে আপনার মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষণ দেয়া। যখন আপনি একগুচ্ছ নতুন শব্দের মুখোমুখি হন তখন অর্থ বের করেন এবং তা আপনার স্বল্প মেয়াদী স্মৃতিতে সংরক্ষণ করেন।


 জীবনের লক্ষ্যে এবং কঠিন কিছু জয় করতে উৎসাহিত করে
ওহিও স্টেট বিশ^বিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেন যে, যত পড়িবে ততই নিজেকে নিজের চরিত্র দিয়ে তাদের মাঝে নিজেকে চিহ্নিত করতে পারিবে। ভালো পড়া শোনা আপনার জীবনে ভালবাসা ও জীবনের লক্ষ্য খুজতে প্রয়োজন একসেট ভালো বই অনুসরণ করা।


⇘আরও ডাউনলোড করুন:

তাকদীরে বিশ্বাস

     মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন
مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ
পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তােমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি উহা সংঘটিত করিবার পূর্বেই উহা লিপিবদ্ধ থাকে; এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।[১]

     মহানবী (দ.) ইরশাদ করেন:
كَتَبَ اللَّهُ مقادير الْخَلَائق قبل أَن يخلق السَّمَوَات وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ
আল্লাহ সকল সৃষ্টির তাকদীর আসমান ও জমীন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর পূর্বে লিখে রেখেছেন।[২]

     হাদীসে আরও এসেছে:
আল্লাহ তায়ালা তার সৃষ্টিকুলের মধ্যে প্রত্যেক বান্দার পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে চুড়ান্ত ফয়সালা করে রেখেছেন। তার মৃত্যুর তথা বয়স, তার কর্মকান্ড, তার থাকার স্থান বা মৃত্যুর স্থান, তার চলাফেরা এবং তার রিযিক।[3] 

     তাকদীর (تقدير) আরবী শব্দ। যার শাব্দিক অর্থ হলো - নিয়তি, ভাগ্য, অদৃষ্ট, নসিব।[৪]  আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য যা কিছু নির্ধারণ করেছেন। মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর সমগ্র সৃষ্টিকে তাঁর সীমারেখার সাথে সীমাবদ্ধ করা।

সময়ের মূল্য যারা বুঝতেন

     by Md. Habibur Rahman


       মহানবী (দ.) ইরশাদ করেছেন

مَا مِنْ يَوْمٍ طَلَعَتْ شَمْسُهُ إِلَّا يَقُولُ: مَنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَعْمَلَ فِيَّ خَيْرًا فَلْيَفْعَلْ؛ فَإِنِّي غَيْرُ مَرْدُودٍ عَلَيْكُمْ
যখনই কোনদিনের‌ সূর্য উদিত হয়, তখন সে দিন বলে: যে আমার (নির্ধারিত সময়ের) ভিতর কোন কল্যাণকর্ম করতে পারে সে যেন তা করে নেয়। কেননা, আমাকে (এ সময়কে) আর তোমাদের নিকট পুণরায় পাঠানো হবে না।[1]

       হাদীসে আর এসেছে:
لَا تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ عُمُرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ، وَعَنْ عِلْمِهِ مَا فَعَلَ بِهِ، وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ، وَفِيمَا أَنْفَقَهُ، وَعَنْ جِسْمِهِ، فِيمَا أَبْلَاهُ
কিয়ামতের দিন চারটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ব্যতিত কোন মানুষই তার পদদ্বয় সামনে বাড়াতে পারবেন না। তার জীবনকাল সম্পর্কে, তা কিসে শেষ করেছে। তার জ্ঞান সম্পর্কে, তা কোন কাজে ব্যয় করেছে। তার সম্পদ সম্পর্কে; তা সে কিভাবে অর্জন করেছে এবং ব্যয় করেছে। তার যৌবন সম্পর্কে তা কিসে ক্ষয় করেছে।[2]

      এটি সর্বজন স্বীকৃত নীতিবাক্য যে, ‘সময় ও নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করেনা।’ মানুষের জীবনকাল সীমিত; এই সীমিত কালে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে। তাই প্রতিটি মুহূর্ত খুবই মূল্যবান। এই মূল্যবান সময়কে যথাযথ ভাবে কাজে না লাগিয়ে হেলায় অতিবাহিত করলে জীবনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। পরবর্তীতে এই ক্ষতির জন্য আফসোস করা যায়; কিন্তু সেই সময়কে আর ফিরিয়ে আনা যায় না। কোন পার্থিব সম্পদের মানদন্ডে সময়কে নিরুপন করা সম্ভব নয়। প্রকৃত বুদ্ধিমান তো সে-ই, যে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পূর্ণ দৃঢ়তা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে ভবিষ্যতের পথে চলে। এক-একটি মুহূর্ত হিসাব করে খরচ করে আর সময়কে অধিক থেকে অধিকতর ফলপ্রসূ  করতে সচেষ্ট হয়। বোকা তো সেই, যে অতীতের নষ্ট হওয়অ সময় নিয়ে আফসোস করে। 

      আল্লাম ইবনুল জাওযী (র.) তদ্বীয় কিতাব مدارج السالكين বলেন:

الاشتغال بالندم على الوقت الفائت تضييع للوقت الحاضر

হাতছাড়া হয়ে যাওয়া সময়ের জন্য অনুশোচনা – অনুতাপে লিপ্ত হওয়া তো বর্তমান সময়কে নষ্ট করা।[3]

      সময়ের মূল্য যারা বুঝতেন:

  🔯ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান শায়বানী (র.)। তিনি ইমাম আবু হানিফা (র.) এর অন্যতম প্রসিদ্ধ ছাত্র ছিলেন। ইলম অন্বেষণের জন্য তিনি রাতে খুব অল্প সময় ঘুমাতেন। সব সময় বিভিন্ন কিতাব কাছে রাখতেন। যখন একটি বিষয় পড়তে পড়তে একগেয়েমি বোধ করতেন তখন অন্য বিষয় পড়তেন। আর তিনি চোখে পানি ছিটিয়ে ঘুম দুর করতেন। তিনি বলতেন: إن النوم من الحرارة ঘুম তো উষ্ণতা থেকেই আসে। তাই শীতলতার মাধ্যমেই তাকে প্রতিহত করতে হয়।[4]

  🔯আমর ইকনে বাহর (র.)। তাঁর হাতে যখনই কোন কিতাব আসতো (তা যে কোন বিষয়েরই হোক না কেন) তা শুরু থেকে শেষ পযন্ত পড়ে ফেলতেন। এক সময় যখন তিনি মনের চাহিদা পূরণের জন্য সহজে কোন কিতাব পাচ্ছিলেন না, তখন অর্থের বিনিময়ে কয়েকটি লাইব্রেরীর সাথে চুক্তি করেন এবং দিন রাত সেখানে পড়ে থেকে কিতাব অধ্যয়ন করতে থাকেন।[5]

      একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা:
জনৈক ব্যক্তি কোথাও একটি অতি মূল্যবান হীরকখন্ড পেল।  সে তা নিয়ে এক জহুরীর নিকট গেল এবং হীরকখন্ডটি সম্পর্কে জানতে চাইল। জহুরী তাকে বলল, এর প্রকৃত মূল্য তখনই হবে যখন এর উপর কারুকার্য খচিত হবে। তবে এ কাজ অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর। এর জন্য মোটা অংকের পারিশ্রমিকও গুণতে হয়। লোকটি জহুরীর কথায় হীরার মূল্য উপলব্ধি করতে পারল এবং এ কাজের জন্য যে কোনো পারিশ্রমিক দিতে রাজি হয়ে গেল। জহুরীকে সাথে করে নিজের বাড়ি নিয়ে এল। জহুরীর একটি গুণ এই ছিল যে, সে গানও জানত। কথাবার্তার এক ফাঁকে লোকটি তাকে একটি গান শোনানোর আবেদন করল। জহুরী একটি গানের সুর ধরে গাইতে শুরু করল। এদিকে দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। গান শেষ করে জহুরী বলল, আমার পারিশ্রমিক দিন, আমার সময় পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। এ কথা শুনে লোকটি অবাক-বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলল, কীসের পারিশ্রমিক? আপনি তো এখনও হীরকখন্ডটি স্পর্শই করেননি! এবার জহুরী বললআরে, মূল্য তো সময়ের হয়। আর আমি তা দিয়েছি। সুতরাং আপনাকে এখন তার মূল্য দিতে হবে। ফলে বাধ্য হয়েই তাকে এর পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হল।[6]

       সময়ই তো জীবন:

       🔯উসতাজ হাসানুল বান্নাহ (র.) বলেন:

من عرف حق الوقت، فقد أدرك الحياة، فالوقت هو الحياة.

বলা হয়ে থাকে যে, সময় হলো স্বর্ণখন্ড কিংবা অমূল্য রতন। কিন্তু কথাটি তাদের জন্য যারা বস্তুগত মূল্য ছাড়া কোনকিছুকে মূল্যায়ন করতে জানে না। তবে, যাদের দৃষ্টি এর চেয়েও দূরে, এর চেয়েও ভিন্ন তাদের উদ্দেশ্যে বলা যায়: সময় তো তোমার জীবনকাল ছাড়া আর কিছু নয়![7]



আরও পড়ুন:

গুণাহ করার পর করণীয়।




[1] আবু বকর আল বায়হাকী, আহমদ ইবনে হুসাইন র., ওফাত:৪৫৮ হিঃ, شعب الإيمان ৫ম খন্ড/ পৃ:৩৬৫, হাদীস নং ৩৫৫৮।
[2] আবু ঈসা আত তিরমিজী, মুহাম্মদ ইবনে ঈসা র., ওফাত;২৭৯ হিঃ, الجامع الكبير ৪র্থ খন্ড, হাদীস নং ২৪১৭।
[3] শায়খ আব্দুল ফাতাহ, আবু গুদ্দাহ র., قيمة الزمن عند العلماء পৃ: ২৪।
[4] قيمة الزمن عند العلماء পৃ: ৩১
[5] প্রাগুক্ত, পৃ: ৩৯।
[6] মাসিক আল কাউসার, (জুমাদাল উলা, মে ২০০৮ সংখ্যা)
[7] ময়ের মূল্য যারা বুঝতেন, পৃ:১২৫।

গুণাহ করার পর করণীয়





    যদি তাওবাকারী তাওবা করার পর পুনরায় গুণাহে লিপ্ত হয় অথবা ভুলে পাপ কাজ করে ফেলে, তার করণীয় কি? কেননা, কু-প্রবৃত্তি মানুষের মজ্জাগত একটি উপাদান। এ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। আর মানুষ পাপ করবে বলেই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ার আধার। কেননা, হাদীস শরীফে এসেছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

لَوْ أَنَّكُمْ لَمْ تَكُنْ لَكُمْ ذُنُوبٌ يَغْفِرُهَا اللَّهُ لَكُمْ لَجَاءَ اللَّهُ بِقَوْمٍ لَهُمْ ذُنُوبٌ يَغْفِرُهَا لَهُمْ

    'যদি তোমরা গোনাহ করে আল্লাহ তাআলার মহান দরবারে তাওবা-ইস্তগিফার না করতে তবে আল্লাহ তাআলা এমন এক মাখলুক সৃষ্টি করতনে, যারা গোনাহ করে আল্লাহ তাআলার দরবারে তাওবা করতো, তখন আল্লাহ তাআলা তাদরেকে ক্ষমা করতনে।'[১]

    এহেন পরিস্থিতিতে তাওবাকারীর করণী সর্ম্পকে ইমাম গাযালী (র.) বলেন:
أن الواجب عليه التوبة والندم والاشتغال بالتكفير بحسنة تضاده
'যদি তাওবাকারী গুনাহ করে ফেলে, তবে তার ওপর দুটি বিষয় ওয়াজিব বা আবশ্যক। 
প্রথমত: সে তাওবা ও অনুতাপ করবে। 
দ্বিতীয়ত: এ গুণাহকে মিটিয়ে ফেলার জন্য তার বিপরীতে কোন পূন্যকাজ করবে।'[২]

ইসলামিক উপন্যাস কালেকশন: এখনই ফ্রি ডাউনলোড করুন

ইসলামিক উপন্যাস 

  1. স্পেনের রুপসী কন্যা - ১
  2. স্পেনের রুপসী কন্যা - ২
 রডারিক নামক নরপশুর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য জুলিয়ান মূসা ইবন নুসাইরকে স্পেন আক্রমণের সাদর আমন্ত্রণ জানান। এবার সেনাপতি মূসা বিন নুসাইর প্রথমে পরীক্ষামূলক অভিযানের জন্য তারিফ বিন মালিককে চারশ’ পদাতিক এবং একশ’ অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে স্পেনের আলজিসিরাসে সফল অভিযান চালান। তারিফের এই সফল অভিযানের সংবাদ পেয়ে মূসা বিন নুসাইরের সহকারী সেনাধ্যক্ষ তারিক ইবনু যিয়াদ সাত হাযার সৈন্য সমন্বয়ে গঠিত এক মুজাহিদ বাহিনী অতি সফলতার সাথে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর সংযোগকারী প্রণালিটি অতিক্রম করে ৯২ হিজরীর রজব অথবা শা‘বান মোতাবেক ৭১১ খ্রীষ্টাব্দের এপ্রিল অথবা মে মাসে স্পেন ভূখন্ডে অবতরণ করেন। যে পাহাড়ের পাদদেশে তারিক অবতরণ করেছিলেন তার নামকরণ করা হয় ‘জাবালুত তারিক’ (Gibralter)।
এ সংবাদ স্পেনের শাসনকর্তা রডারিকের কর্ণগোচর হওয়া মাত্র তিনি যথাসাধ্য প্রস্ত্ততি নিলেন আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য। অন্যদিকে সেনাপতি তারিকও তাঁর অভিযানকে স্পেনের মূল ভূখন্ডের দিকে পরিচালনা করলে সেনাধ্যক্ষ মূসা পাঁচ হাযার সৈন্য প্রেরণ করেন। সর্বমোট ১২০০০ সৈন্যসহ সেনাপতি তারিক অগ্রসর হন। ১৯ জুলাই ৭১১ খ্রীষ্টাব্দে মুসলিম বাহিনী এবং গথিক রাজা রডারিকের নিয়মিত বাহিনীর মধ্যে ওয়াদী লাজু নামক স্থানে এক তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে গথিক বাহিনী ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে পলায়ন করে। হাযার হাযার গথিক সৈন্য মৃত্যুবরণ করে। রডারিক উপায়ান্তর না দেখে পলায়ন করতে গিয়ে নদীবক্ষে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারান। তারিক আরো অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি মুসলিম বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে এই ভাষণ দেন যে, ‘তোমাদের সম্মুখে শত্রুদল এবং পিছনে বিশাল বারিধি। তাই আল্লাহ্র কসম করে বলছি, যে কোন পরিস্থিতিতে ধৈর্যধারণ ও অবিচল থাকা এবং আল্লাহ্র সাথে কৃত ওয়াদা বাস্তবায়ন করা ব্যতীত তোমাদের বিকল্প কোন পথ নেই’। সৈনিকগণও সেনাপতির ভাষণের জবাব দেয়, জয় না হওয়া পর্যন্ত আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব। কারণ আমরা সত্য প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
মুসলিম সৈনিকদের প্রচন্ড আক্রমণের ফলে গথিক রাজ্যের একটির পর একটি শহরের পতন হ’তে থাকে। ৭১১ খ্রীষ্টাব্দের অক্টোবরে মুসলমানরা কর্ডোভা জয় করেন। মুসলমানরা স্পেন জয় করার পর প্রথমে সেভিল (Seville) কে রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করেন।
  1. প্রথম পরিবার.pdf
  2. মানুষ ও দেবতা.pdf
  3. প্রথম দিনের সূর্য.pdf
  4. জীলান সূর্য়ের হাতছানি.pdf
  5. আল্লাহর তলোয়ার.pdf
  6. মুহাম্মদ বিন কাসিম.pdf
  7. আঁধার রাতের মুসাফির.pdf
  8. ভেঙ্গে গেলো তলোয়ার.pdf
  9. কিং সাইমুনের রাজত্ব.pdf
  10. শেষ প্রান্তর.pdf
  11. রক্তা্ক্ত জনপদ.pdf
  12. শেষ বিকালের কান্না.pdf
  13. হেজাজের কাফেলা.pdf
  14. সিমান্ত ঈগল.pdf
  15. সাইমুন সিরিজ.pdf
  16. বখতিয়ারের তলোয়ার.pdf
  17. ফুরাত নদীর তীরে.pdf
  18. উহুদ থেকে কাসিয়ূন.pdf
  19. ১ম দিনের সূর্য.pdf
  20. কায়সার ও কিসরাহ.pdf
  21. নুর ই সেরহিন্দ.pdf
  22. আরব মরুতে সফর.doc
  23. ফরাতের তীর.pdf
  24. আরব দুহিতা
  25.  নাঙ্গা তলোয়ার - ১
  26.   নাঙ্গা তলোয়ার - ২
  27.   নাঙ্গা তলোয়ার - ৩
  28.  নাঙ্গা তলোয়ার - ৪
  29.  নাঙ্গা তলোয়ার - ৫
  30.  নাঙ্গা তলোয়ার - ৬ 

★নসীম হিজাযীর আসল নাম ছিলো শরীফ হুসাইন। নসীম হিজাযী ছদ্মনামে তিনি লেখালেখি করতেন। ১৯১৪ খৃস্টাব্দে পাঞ্জাব জেলার গুরুদাসপুরে শরীফ হুসাইন জন্মগ্রহণ করেন। পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করলে তিনি পরিবারের সাথে পাকিস্তানে চলে আসেন। লাহোরে বসবাসরত অবস্থায় ১৯৯৬ সনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

★বিখ্যাত সাংবাদিক, কলামিস্ট, ঔপন্যাসিক এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ ১ নভেম্বর ১৯২০ খৃস্টাব্দে (স্বাধীনতাপূর্ব) পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের এক রাজপুত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৯ খৃস্টাব্দের ১৬ ই নভেম্বর ৭৯ বছর বয়সে তিনি লাহোরে ইন্তেকাল করেন।

আরও ডাউনলোড করুন: